সংবাদ লোড হচ্ছে, অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন।
সাহসী কণ্ঠ লক্ষ্যে আছি,পক্ষে নেইজম্পুইজলায় অসহায় বৃদ্ধ দম্পতির পাশে নেই সরকারি ভাতা! শয্যাশায়ী মানিক মিয়ার চিকিৎসা ও আর্থিক সাহায্যের আবেদন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা, জম্পুইজলা: জীবনের অন্তিম লগ্নে এসে চরম অমানবিক ও দুর্বিষহ এক পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন এক বৃদ্ধ দম্পতি। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে সম্পূর্ণ পক্ষাঘাতগ্রস্ত (প্যারালাইজড) হয়ে বিছানায় শয্যাশায়ী জম্পুইজলা ব্লকের দুর্গম এলাকা গুলিরাই বাড়ি ভিলেজের মুসলিম পাড়া এলাকার ৮০ বছরের মানিক মিয়া। গত এক বছর ধরে তাঁর এই পঙ্গুত্ব ও অসহায় অবস্থার সঙ্গে একা লড়াই করে চলেছেন তাঁর বৃদ্ধা স্ত্রী হেলেনা খাতুন। অথচ অভাবের সংসারে জুটছে না ন্যূনতম সরকারি সাহায্য—বয়স্ক ভাতার দাবিদার হলেও কপালে জোটেনি একটি টাকাও।জানা গেছে, মানিক মিয়া বিপিএল রেশন কার্ডের অন্তর্ভুক্ত একজন প্রান্তিক মানুষ। তাঁদের কোনো পুত্রসন্তান নেই, আর মেয়েদের বিয়ে হয়ে যাওয়ায় বৃদ্ধ বয়সে পাশে দাঁড়ানোর মতো কেউ নেই। গত এক বছর আগে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকেই সম্পূর্ণ শয্যাশায়ী মানিক মিয়া। স্বামীকে নিজ হাতে স্নান করানো, ঘরে-বাইরে আনা-নেওয়া—সমস্ত কাজই এখন একাই করতে হয় বৃদ্ধা স্ত্রী হেলেনা খাতুনকে।চিকিৎসার জন্য হাতে একটি টাকাও নেই। ওষুধের খরচ তো দূরের কথা, দু'বেলা খাবার জোগাড় করতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। এই চরম বিপদের দিনে এলাকার কিছু পাড়া-প্রতিবেশী ও একটি স্থানীয় ক্লাব এগিয়ে এসে তাঁদের কিছু সাহায্য করায় কোনো রকমে দিন কাটছে।স্বামী-স্ত্রী দুজনেই বয়স্ক ভাতার যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও আজ পর্যন্ত কোনো ভাতা না মেলায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। চিকিৎসার অভাব এবং অর্থাভাবে দিন দিন আরও শোচনীয় হয়ে উঠছে মানিক মিয়ার শারীরিক অবস্থা। নিরুপায় হয়ে শেষ পর্যন্ত এই বৃদ্ধ দম্পতি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে হাতজোড় করে একটি ভাতার আবেদন জানিয়েছেন, যাতে অন্তত জীবনের শেষ দিনগুলোতে একটু চিকিৎসার আলো ও দু'মুঠো অন্নের সংস্থান হয়।