সংবাদ লোড হচ্ছে, অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন।
সাহসী কণ্ঠ লক্ষ্যে আছি,পক্ষে নেইপ্রবাসে ঘামঝরানো উপার্জন আর বিশ্বাসের চরম বলিদান! সোনামুড়ায় ২০ বছরের সংসারে ভাঙন, মায়ের বিরুদ্ধে থানার দ্বারস্থ ছেলে

একটি সংসার তিল তিল করে গড়ে তুলতে লাগে বছরের পর বছর । কিন্তু সেই সংসারে যদি অবিশ্বাসের কালো ছায়া নেমে আসে, তবে মুহূর্তেই ধূলিসাৎ হয়ে যায় সাজানো স্বপ্ন। পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে সুদূর প্রবাসে দিনের পর দিন হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে যাওয়া এক প্রবাসীর জীবনে নেমে এল চরম বিপর্যয়। পরকীয়ার জেরে ২০ বছরের সাজানো সংসার ভাঙার অভিযোগ উঠল খোদ স্ত্রীর বিরুদ্ধে। আর এই বেদনাদায়ক ঘটনায় নিজের মায়ের বিরুদ্ধে সোনামুড়া থানায় আইনি লড়াইয়ের পথ বেছে নিয়েছেন স্বয়ং বড় ছেলে। ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সোনামুড়া থানার অন্তর্গত আড়ালিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সাবিনা বেগম এবং নুর আহমেদ (যাঁর নিজেরও স্ত্রী ও দুই সন্তান রয়েছে)। অন্যদিকে, অভিযোগকারী প্রবাসী এরশাদ আলীর বাড়ি কাকড়াবন থানার কিশোরগঞ্জ এলাকায়।পরিবার ও থানা সূত্রে জানা যায়, প্রায় পাঁচ বছর আগে পরিবারের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে এবং দুই সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে জীবিকার তাগিদে প্রবাসে পাড়ি দিয়েছিলেন এরশাদ আলী। প্রবাসের তীব্র কষ্ট সহ্য করে তিনি নিয়মিত স্ত্রীর অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠাতেন। কিন্তু অভিযোগ, গত দুই বছর ধরে স্থানীয় নুর আহমেদের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন স্ত্রী সাবিনা বেগম। পরিবারে পাঁচ বছরের একটি ছোট শিশুসন্তান থাকা সত্ত্বেও এই অনৈতিক সম্পর্ক চলতে থাকে।প্রবাসে থাকা স্বামীর পাঠানো কষ্টের উপার্জনের টাকা নষ্ট করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এরশাদ আলীর পাঠানো অর্থের একটি বড় অংশ সাবিনার অ্যাকাউন্ট থেকে ঘুরপথে নুর আহমেদের অ্যাকাউন্টে চলে গেছে বলে দাবি। প্রায় পাঁচ লক্ষ টাকা এবং বেশ কিছু মূল্যবান স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগের আঙুল উঠেছে। শুধু তাই নয়, চেন্নাইয়ের একটি হোটেলে অভিযুক্ত সাবিনা বেগম ও নুর আহমেদের একসঙ্গে কাটানো মুহূর্তের ভিডিও প্রমাণও রয়েছে বলে দাবি করেছে পরিবার। মায়ের এই অনৈতিক কার্যকলাপের প্রতিবাদ করায় চরম নির্যাতনের শিকার হতে হয় বড় ছেলে আব্দুল আহাদকে। এমনকি তাঁকে নানুর বাড়ি থেকেও বের করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।একদিকে প্রবাসীর আত্মসম্মান আর অন্যদিকে সন্তানদের ভবিষ্যৎ—সবমিলিয়ে চরম মানসিক যন্ত্রণায় দিন কাটাচ্ছেন এরশাদ আলী। নিরুপায় হয়ে শেষ পর্যন্ত নিজের মায়ের বিরুদ্ধেই সোনামুড়া থানায় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন ছেলে আব্দুল আহাদ।প্রবাস থেকে পাঠানো টাকা আর বিশ্বাসের এমন নির্মম পরিণতিতে এলাকা জুড়ে শোক ও ক্ষোভের ছায়া নেমে এসেছে। সর্বস্ব হারিয়ে একজন প্রবাসীর এই বুকফাটা কান্না ও অসহায় অবস্থা নাড়া দিয়েছে সচেতন নাগরিকদেরও।